বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দীর্ঘ অভিযাত্রার ৪৮ উল্লেখযোগ্য অর্জন
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা থেকে খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ ও বিএনপির ৩১ দফা—দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন অর্জন ও উদ্যোগ তুলে ধরেছে দলটি
ডেলি তরুণ বার্তা ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রার উল্লেখযোগ্য ৪৮টি অর্জন ও উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস, আন্দোলন-সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।
এ সময় দেশের সর্বস্তরের জনগণ, দলটির সমর্থক, নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শ এবং দলের বর্তমান নেতৃত্বের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপকল্পকে সামনে রেখে বিএনপির দীর্ঘ পথচলার বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয়েছে।
৪৮ বছরে বিএনপির উল্লেখযোগ্য ৪৮ অর্জন
দলটির পক্ষ থেকে উল্লেখ করা অর্জন ও উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবর্তন।
২. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি।
৩. স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাসম্পন্ন পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ।
৪. বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
৫. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ।
৬. ওআইসি ও মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের ভূমিকা জোরদারের উদ্যোগ।
৭. সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতির অন্তর্ভুক্তি।
৮. বিভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ।
৯. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি।
১০. রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প বিকাশের সূচনা।
১১. বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির প্রসারে উদ্যোগ।
১২. বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, শিশুপার্ক ও নতুন কুঁড়ি প্রতিষ্ঠা।
১৩. স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক প্রবর্তন।
১৪. স্বনির্ভর গ্রাম সরকার প্রবর্তনের উদ্যোগ।
১৫. ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা।
১৬. বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন।
১৭. গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন।
১৮. গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন।
১৯. মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রা।
২০. সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।
২১. সংবিধানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্তি।
২২. মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালু।
২৩. এসিড অপরাধ দমন আইন প্রণয়ন।
২৪. সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠন।
২৫. প্রাথমিক শিক্ষা দেশব্যাপী বাধ্যতামূলক ঘোষণা।
২৬. নারী শিক্ষার প্রসারে বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ।
২৭. শ্রমিকবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম আইন প্রণয়ন।
২৮. ‘খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা’ কর্মসূচি প্রবর্তন।
২৯. উচ্চশিক্ষার প্রসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৩০. বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
৩১. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পথ উন্মুক্ত করা।
৩২. জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু।
৩৩. পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন।
৩৪. পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবস্থার প্রসারে সিএনজি চালুর উদ্যোগ।
৩৫. দেশের প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণ।
৩৬. জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন বৃদ্ধির উদ্যোগ।
৩৭. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা।
৩৮. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গঠন।
৩৯. বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা।
৪০. স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
৪১. তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা স্থাপন ও সম্প্রসারণ।
৪২. বেসরকারি খাতে মোবাইল যোগাযোগ উন্মুক্তকরণ এবং বিটিআরসি গঠন।
৪৩. বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠা।
৪৪. রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি।
৪৫. কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কৃষক কার্ডের প্রস্তাব।
৪৬. নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রস্তাব।
৪৭. ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, পুরোহিতসহ ধর্মীয় উপাসকদের জন্য মাসিক সম্মানীর প্রস্তাব।
৪৮. বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, স্বাধীনতার মূলনীতি এবং গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ।
অতীতের পথচলা থেকে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতায় দলের বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় রয়েছে।
দলটির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মদানের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনকে বিএনপির রাজনৈতিক অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে বিএনপি তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অর্জন ও উদ্যোগ স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেছে।
স্টাফ রিপোর্টার
মমিন মজুমদার
ডেলি তরুণ বার্তা


